ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-২৪ ১১:২৭:৪৩
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক নিহত সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক নিহত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নেত্রকোনার মদন উপজেলার রিপন মিয়া (৩৭) নামের এক প্রবাসী যুবক সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার গোবিন্দশ্রী বড্ডা গ্রামের খৃষ্টান বাড়ির বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

শনিবার দুপুরে রিপন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ছোট ভাই সৌদি প্রবাসী শামীম আহমেদ। খবরটি এলাকায় পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২০ মে) সৌদি সময় সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এ্যাম্বো শহর থেকে ফাইল শহরে যাওয়ার পথে মদিনার কাছে একটি মালবাহী লড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন রিপন মিয়া।

নিহতের ভাই শামীম আহমেদ জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে গত বছরের অক্টোবর মাসে সৌদি আরব যান রিপন। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে ধীরে ধীরে পরিবারের অবস্থার উন্নতি করছিলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, রিপন সৌদি আরবের এ্যাম্বো শহরে কাজ করতেন। কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় কাজ কম থাকায় তিনি বুধবার পরিচিতজনের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এ্যাম্বো থেকে মদিনা হয়ে ফাইল শহরের পথে রওনা দেন। পথে মদিনায় মাগরিবের নামাজ আদায় করে তিনি ভিডিও কলে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং মসজিদে নববীসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থান দেখান।

এরপর আরও দুই সহযাত্রী নিয়ে ট্যাক্সিক্যাবে করে ফাইল শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। কিছুদূর যাওয়ার পর একটি মালবাহী লড়ি পেছন থেকে ট্যাক্সিক্যাবটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রিপন মিয়ার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় গাড়িচালকও গুরুতর আহত হন এবং তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা গেছে।

শামীম আহমেদ জানান, তিনি সৌদি আরবের অন্য একটি এলাকায় অবস্থান করছেন, যেখান থেকে দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ২২ ঘণ্টার পথ। এখনো তিনি ভাইয়ের লাশ দেখতে পারেননি। তবে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মাধ্যমে তিনি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

নিহতের বাবা বাচ্চু মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার দুই ছেলে সৌদি আরবে থাকত। রিপন ছিল বড় ছেলে। কয়েক মাস আগে ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে সৌদি আরবে যায়। তার আয়-রোজগারও ভালো হচ্ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ আমার নাতি-নাতনিরা বাবাকে হারাল, আর আমি হারালাম আমার আদরের সন্তানকে।”

তিনি সরকারের কাছে ছেলের লাশ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নিহত রিপন মিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ